পাশাপাশি বিশ্ববাজারে কোকোর দামও নিম্নমুখী রয়েছে। তবে একই সময় চিনির দামে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে পণ্যগুলোর বাজারে এ ওঠানামা তৈরি হয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে অ্যারাবিকা কফির দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে অ্যারাবিকা কফির দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমে পাউন্ডপ্রতি ২ ডলার ৪৫২ সেন্টে নেমে আসে। এর আগে লেনদেনের একপর্যায়ে দাম কমে পাউন্ডপ্রতি ২ ডলার ৪৪৯ সেন্টে দাঁড়ায়, যা দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সব মিলিয়ে সপ্তাহজুড়ে পণ্যটির দাম কমেছে প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলে এবার রেকর্ড পরিমাণ কফি উৎপাদন হয়েছে। বিপুল পরিমাণ নতুন ফসল বাজারে আসায় মূলত দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা ভাইসালা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ব্রাজিলের কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় আগামী পাঁচদিন আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। ফলে সেখানে কফি সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলবে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্যানুযায়ী, ২০২৬-২৭ মৌসুমে ব্রাজিলে কফি উৎপাদন বেড়ে ৭১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যাগে পৌঁছতে পারে, যা আগের মৌসুমে ছিল ৬৩ মিলিয়ন ব্যাগ। অ্যারাবিকার পাশাপাশি রোবাস্তা কফির দামও ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ৩১৩ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
কফির মতো আন্তর্জাতিক বাজারে কোকোর দামও কমেছে। লন্ডনের বাজারে কোকোর দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে টনপ্রতি ২ হাজার ৮৯৮ পাউন্ডে নেমে এসেছে। ফলে সপ্তাহ শেষে পণ্যটি প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ মূল্যের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
নিউইয়র্কের বাজারেও কোকোর দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৩ হাজার ৮৩৩ ডলারে নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্ববাজারে কোকোর চাহিদা এখন বেশ দুর্বল। কম চাহিদাই মূলত বাজারে দাম কমার অন্যতম কারণ।
কফি ও কোকোর বাজার নিম্নমুখী হলেও অপরিশোধিত চিনির বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির দাম দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি পাউন্ড ১৪ ডলার ৩৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। ফলে সপ্তাহজুড়ে চিনির দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধির পথে রয়েছে।